(প্রথম অধ্যায়) Understand the Fundamentals of Micro controller

প্রথম অধ্যায়


1.1 মাইক্রোপ্রসেসর ও মাইক্রোকন্ট্রোলার এর সংজ্ঞা

(Define Microcontroller and Microprocessor.)

মাইক্রোকন্ট্রোলার কি?

মাইক্রো এবং কন্ট্রোলার দুটি একত্রে একটি ইংরেজি শব্দ মাইক্রোকন্ট্রোলার। মাইক্রো বাংলা অর্থ হচ্ছে ক্ষুদ্র এবং কন্ট্রোলার বাংলা অর্থ হচ্ছে নিয়ন্ত্রন করা। তাহলে এতে করে বুঝা যায় ক্ষুদ্র একটি জিনিস নিয়ন্ত্রন করবে।

এটিকে আসলে একটি ছোট কম্পিউটার বলা যেতে পারে। এতে প্রসেসর, র‍্যাম, মেমোরি ইনপুট/আউটপুট প্রান্ত একই সাথে থাকে।

μC হলো মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং MCU হলো মাইক্রোকন্ট্রোলার ইউনিট।

মাইক্রোকন্ট্রোলারের কাজ কি?

সহজ ভাষায় বলতে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কিছু নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করা এর কাজ। নির্দিষ্ট নিয়ম বলতে প্রোগ্রামিং-কে বুঝানো হয়েছে। আমরা প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে যেভাবে নির্দেশনা দিবো ঠিক সেভাবেই মাইক্রোকন্ট্রোলার তার আউটপুট দিবে। এটাকে প্রোগ্রামাবেল ডিভাইস ও বলা হয়। একে যতবার ইচ্ছা ততবার প্রোগ্রাম করতে পারবেন।

মাইক্রোকন্ট্রোলার মূলত এনালগ কাজকে ডিজিটালে রুপান্তরিত করে থাকে। তাহলে এনালগ কাজগুলো কি? এনালগ কাজ বুঝানো হয়েছে যা বিভিন্ন প্রকার আইসি, ট্রান্সজিস্টর, ডায়োড ও ইত্যাদি ডিভাইস করে থাকে। এই সকল ডিভাইসের কাজকে মাইক্রোকন্ট্রোলার একসাথে ডিজিটাল মান (০,১) এর মাধ্যমে করতে পারে।

ধরুন আমরা একটি ৭ সেগমেন্ট ঘড়ি বানাবো। এই জন্য আমাদের ৭ সেগমেন্ট ড্রাইভার আইসি, টাইম কাউন্টার সার্কিট, টাইম সেট করার সার্কিট ইত্যাদি লাগবে। মজার ব্যাপার হলো শুধুমাত্র মাইক্রোকন্ট্রোলার দিয়ে এই কাজটি সহজে করা যাবে।


মাইক্রোপ্রসেসর কি?


মাইক্রোপ্রসেসর মূলত একটি ডিজিটাল ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) যা সাধারনত ইনপুট বাসের মাধ্যমে ডাটা ও ইনস্ট্রাকশন গ্রহন করে, ইনস্ট্রাকশ অনুযায়ী ডাটা প্রক্রিয়া করে ফলাফল তৈরি করে এবং ঐ ফলাফল আউটপুট বাসের মাধ্যমে আউটপুট ডিভাইসে প্রেরন করে থাকে।



ইনপুট আউটপুট ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রনের জন্য বিভিন্ন কন্ট্রোল সিগন্যাল তৈরি করে। একটি কম্পিউটারের লজিক্যাল ও গাণিতিক কার্যাবলী মাইক্রোপ্রসেসরে সংগঠিত হয়। মাইক্রো-প্রসেসর একটি কম্পিউটার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ন অংশ যা সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে কাজ করে থাকে। উদাহরন হিসেবেঃ Intel 8085, MC 68000, Z80 কয়েকটি জনপ্রীয় মাইক্রোপ্রসেসরের উদাহরণ।



1.2 একটি মাইক্রোকন্ট্রোলারের প্রাথমিক বিল্ডিং ব্লকগুলি উল্লেখ করুন।
(Mention the basic building blocks of a Microcontroller)

মাইক্রোকন্ট্রোলার যে সকল মৌলিক অংশ নিয়ে গঠিত তা নিম্মে চিত্রের সাহায্যে দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে মাইক্রোকন্ট্রলার গঠন করে থাকে। আমরা এখন একটি সরল ও প্রাথমিক মাইক্রোকন্ট্রোলারের গাঠনিক কাঠামো দেখবো।



CPU (সিপিইউ)
CPU এর অর্থ হলো সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট যা মূলত ALU, Accumulator, Control Unit, Flag, Stack Pointer ও কিছু General purpose register নিয়ে তৈরি। মাইক্রোকন্ট্রলারের লজিক্যাল কাজগুলো সিপিইউ এর ALU তে হয়ে থাকে।

রেম হতে ইন্সট্রাকশন কে ইনস্ট্রাক্টশন রেজিস্টারে স্থানান্তরিত করা হয়। এসেম্বলি মূলত ল্যাংগুয়েজের ইন্সট্রাকশনকে মেশিন ল্যাংগুয়েজে রুপান্তরিত করে থাকে। ও ALU তে প্রয়োজনীয় লজিক্যাল কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। পরিশেষে মেমোরিতে অর্থাৎ আউটপুট রেজিস্টারে প্রেরণ করে।

মেমোরিঃ
মাইক্রোকন্ট্রলারের অভ্যন্তরীণে সেমিকন্ডাক্টর মেমোরি ব্যবহিত হয় যেখানে র‍্যাম, রম থাকে। র‍্যাম হলো অস্থায়ী মেমোরি যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে মুছে যায় পক্ষান্তরে রমে ডাটা স্থায়ী ভাবে থাকে।

ইনপুট/আউটপুট পোর্ট
বিভিন্ন সেন্সর থেকে মাইক্রোকন্ট্রলার ইনপুট হিসাবে সিগনাল গ্রহন করে থাকে এবং মাইক্রোকন্ট্রলার আউটপুটে এল সি ডি ডিস্প্লে, সেভেন সেগমেন্ট ডিস্প্লে, স্টেপার মোটর, সেন্সর ইত্যাদি যুক্ত করা হয়।

এই সকল সিগন্যাল গ্রহণ ও নির্গমন যে পোর্টের মাধ্যমে হয় তাকে ইনপুট/আউটপুট পোর্ট বলে। এই পোর্টগুলো হলো মাইক্রোকন্ট্রলারের এক বা একাদিক রেজিস্টার যার বিট মাইক্রোকন্ট্রলারের বাহ্যিক  পিন এর সাথে লজিক্যালি যুক্ত থাকে। একই পোর্টকে ইউজার ইচ্ছা করলে প্রোগ্রাম দ্বারা ইনপুট এবং আউটপুট হিসেবে নির্ধারন করতে পারবে।

পোর্টসমুহ দুই ধরনের হয়ে থাকে

১। সিরিয়াল পোর্টঃ সিরিয়াল ডাটা কমিউনিকেশনের জন্য সিরিয়াল পোর্ট

২। প্যারালাল পোর্টঃ প্যারালাল ডাটা  কমিউনিকেশনের জন্য প্যারালাল পোর্ট

টাইমার ও কাউন্টার
বেশিরভাগ মাইক্রোকন্ট্রোলারে একটি বা কোন কোন ক্ষেত্রে একের বেশিও টাইমার কাউন্টার থেকে থাকে। এটি মূলত সময় নির্ধারন, বিরতি পরিমাপ ইত্যাদি গণনা করে থাকে। এটার প্রধান কাজ ফ্রিকুয়েন্সি এবং ক্লক ফাংশন পরিমাপ করা। এটা প্রধানত ৮ বিট বা ১৬ বিটের রেজিস্টর।

ডিজিটাল টু এনালগ কনভার্টার
এটা ডিজিটাল সিগন্যাল কে এনালগ সিগন্যালে রুপান্তরিত করে থাকে এবং বিভিন্ন এনালগ ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

এনালগ টু ডিজিটাল কনভার্টার
বিভিন্ন এনালগ সেন্সর ও এনালগ ডিভাইস হতে আগত এনালগ সিগন্যাল মাইক্রোকন্ট্রোলারে প্রবেশ করে। কিন্তু আমরা জানি মাইক্রোকন্ট্রোলারের সিপিইউ এনালগ ডাটা রিড করতে পারে না। তাই উক্ত সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রুপান্তরিত করতে হয়। এটাই মূলত এই কনভার্টার করে থাকে।

ইন্টারাপ কন্ট্রোলারঃ
একটি প্রোগ্রাম চলাকালে প্রোগ্রামের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করে অন্য একটি কাজ করাকে ইন্টারাপ বলা হয়। উক্ত কাজ এক্সিকিউশন করার শেষে প্রসেসর আবার মূল প্রোগ্রামে ফিরে যায়। এটাই মূলত ইন্টারাপ কন্ট্রোলারের কাজ।

ওয়াচডগ টাইমারঃ
মাইক্রোকন্ট্রলারের জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বিষয় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মাইক্রোকন্ট্রলার কাজ চলাকালিন অবস্থায় ত্রুটির কারনে প্রোগ্রাম বা হার্ডওয়্যারে অপারশেন ব্যহত হয়। ওয়াচডগ টাইমার সব সময় এই অবস্থা পর্যবেক্ষন করে থাকে এবং প্রোগ্রাম বা হার্ডওয়্যারে সমস্যা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিসেট করে পুনরায় চালু করে।

1.3 মাইক্রোপ্রসেসর এবং মাইক্রোকন্ট্রোলারের মধ্যে পার্থক্য করুন।
(Distinguish between Microprocessor and Microcontroller.)

মাইক্রোকন্ট্রোলার ও মাইক্রোপ্রসেসর এর মাঝে প্রার্থক্য

A)মাইক্রোকন্ট্রোলার মূলত একটি একক চিপ কম্পিউটার যেখানে প্রসেসর, র‍্যাম, রম, এবং ইনপুট/আউটপুট পোর্ট ইত্যাদি থাকে। আর মাইক্রোপ্রসেসর হলো একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট যা কম্পিউটারে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে কাজ করে। এই কারনে একে মাঝে মাঝে সিপিইউ বলা হয়ে থাকে।

B)মাইক্রোকন্ট্রোলার হলোঃ Intel 8051, Atmel ATmega16 ইত্যাদি। মাইক্রোপ্রসেসর হলোঃ Intel x86 পরিবারভুক্ত মাইক্রোপ্রসেসর 8086, 80816, 80286, 80386 ইত্যাদি।

C)মাইক্রোকন্ট্রলারের ভিতরে পূর্নাঙ্গ প্রসেসর থাকে যেমনঃ RAM, ROM, I/O Port ইত্যাদি। মাইক্রোপ্রসেসরের ভিতরে ALU, General Purpose register, Accumulator, program Counter, Flag register, Data and Counter Bus ও ইত্যাদি অংশ থাকে।


1.4 বিভিন্ন ধরণের মাইক্রোকন্ট্রোলারের উল্লেখ করুন।
( Mention different types of Microcontroller.)


মাইক্রোকন্ট্রোলারের প্রকারভেদ

1.প্রসেসিং ওয়ার্ডের আকার অনুসারে
৪ বিট মাইক্রো-কন্ট্রোলার
৮ বিট মাইক্রো-কন্ট্রোলার
১৬ বিট মাইক্রো-কন্ট্রোলার
৩২ বিট মাইক্রো-কন্ট্রোলার

2.নির্দেশনা বা ইন্সট্রাকশন সেট অনুসারে
RISC মাইক্রো-কন্ট্রোলার
CISC মাইক্রো-কন্ট্রোলার
মেমোরি সংযোগ অনুসারে

3.অভ্যন্তরীণ মেমোরি মাইক্রো-কন্ট্রোলার
বাহ্যিক মেমোরি মাইক্রো-কন্ট্রোলার

মাইক্রো-কন্ট্রোলার মেমোরি আর্কিটেকচার অনুসারে
হার্ভার্ড আর্কিটেকচার মাইক্রো-কন্ট্রোলার
ভন-নিউম্যান আর্কিটেকচার মাইক্রো-কন্ট্রোলার


1.5 মাইক্রোকন্ট্রোলার অ্যাপ্লিকেশনগুলির ক্ষেত্র উল্লেখ করুন।
(Mention the field of Microcontroller applications.)

আজকের দিনে প্রায় সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইসের অভ্যন্তরে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার দেখা যায়। পরিমাপক যন্ত্র যেমনঃ ডিজিটাল থার্মোমিটার, গণনা যন্ত্র যেমনঃ ক্যালকুলেটর, ডিসপ্লে সিস্টেম যেমনঃ স্ক্রল মেসেজ ডিসপ্লে, বৈদ্যূতিক বিজ্ঞাপন ইত্যাদি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের অভ্যন্তরে মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহৃত হয়। আধুনিক অটোমোবাইল টেকনোলজিতেও মাইক্রোকন্ট্রোলারের বহুল ব্যবহার রয়েছে। আজকের দিনে প্রায় সকল গাড়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রনকারী হিসাবে নূন্যতম একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং গাড়ীর অন্যান্য ব্যবস্থাসমূহ নিয়ন্ত্রনের জন্য অতিরিক্ত সংখ্যক মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহার করে। ডেস্কটপ কম্পিউটারের পেরিফেরালসমূহ যেমনঃ কিবোর্ড, মডেম, প্রিন্টার এবং অন্যান্য পেরিফেরালসমূহে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার রয়েছে। বৈদ্যূতিক টেস্টিং ও মেজারিং ইকুইপমেন্টসমূহে মাইক্রোকন্ট্রোলার আধুনিক ফিচারসমূহ যুক্ত করেছে যেমনঃ পরিমাপের পাঠ সংরক্ষণ, ইউজার রুটিন সংরক্ষণ, ওয়েভফর্ম ও পরিমাপের ফলাফল ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শন ইত্যাদি। আধুনিক টেলিভিশন রিসিভার এবং রিমোট কন্ট্রোলারেও মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার রয়েছে এছাড়া বহুতল ভবনে ব্যবহৃত লিফটকে নিয়ন্ত্রনের জন্য মাইক্রোকন্ট্রোলার একটি আদর্শ ডিভাইস। উল্লেখিত উদাহরণসমূহ মাইক্রোকন্ট্রোলারের প্রয়োগক্ষেত্রের সামান্য কিছু দৃষ্টান্ত মাত্র। ইলেকট্রনিক টেকনোলজির উন্নয়নের সাথে সাথে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার এত বৃদ্ধি পাচ্ছে যে ভবিষ্যতে মাইক্রোকন্ট্রোলারের ব্যবহার ছাড়া হয়তো কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইস খুজে পাওয়া যাবেনা, অর্থাত যেখানেই বৈদ্যূতিক নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা (Electrical Control System) থাকবে সেখানেই নূণ্যতম একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহার হবে।



1.6 Analyze commercial Microcontrollers with salient features
(বাণিজ্যিক মাইক্রোকন্ট্রোলারদের বিশ্লেষণ করুন)


একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার একটি ছোট, একক সংহত সার্কিট যা অটোমোবাইল, ডিভিডি প্লেয়ার্স, ডিজিটাল ক্যামেরা, আইপড, গ্রাহক যন্ত্র, সেল ফোন, ওয়্যারলেস রেডিও, আরএফআইডি সিস্টেম এবং অন্যান্য অনেক ডিভাইসের মতো বিভিন্ন ধরণের ডিভাইসে পাওয়া যায়। মাইক্রোকন্ট্রোলাররা আজকাল রোবোটিক্সের ক্ষেত্রেও জনপ্রিয়ভাবে পাওয়া যায়।

এখানে বেশ কয়েকটি মাইক্রোকন্ট্রোলার আর্কিটেকচার রয়েছে এবং এগুলির জন্য কয়েক ডজন নির্মাতারাও রয়েছেন। আজ পাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ধরণের মাইক্রোকন্ট্রোলাররা হলেন 8-বিট, 16-বিট এবং 32-বিট মাইক্রোকন্ট্রোলার। 8-বিট মাইক্রোকন্ট্রোলাররা অন্যতম সাধারণ একটি, বিশ্বব্যাপী বিক্রি হওয়া সমস্ত সিপিইউয়ের 50% এরও বেশি 8-বিট মাইক্রোকন্ট্রোলার রয়েছে।

Aruvian Research  বিশ্বব্যাপী মাইক্রোকন্ট্রোলার শিল্পকে তার গবেষণা প্রতিবেদনে মাইক্রোকন্ট্রোলারদের জন্য গ্লোবাল মার্কেট বিশ্লেষণ করেছে। এই গভীরতার প্রতিবেদনটি মাইক্রোকন্ট্রোলারদের পরিচিতির সাথে শুরু হয়। আমরা মাইক্রোকন্ট্রোলারগুলি কী, মাইক্রোকন্ট্রোলারগুলির শ্রেণিবিন্যাস, মাইক্রোকন্ট্রোলারগুলির নকশা এবং প্রোগ্রামগুলি, মাইক্রোকন্ট্রোলারগুলির প্রয়োগ, এই শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং মাইক্রোকন্ট্রোলারগুলি বনাম মাইক্রোপ্রসেসরগুলির বিশ্লেষণ তা লক্ষ্য করি।


বিশ্বব্যাপী মাইক্রোকন্ট্রোলার শিল্পের একটি বিশ্লেষণ বিভিন্ন ধরণের মাইক্রোকন্ট্রোলারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, এটি হ'ল 8-বিট মাইক্রোকন্ট্রোলার, 16-বিট এবং 32-বিট মাইক্রোকন্ট্রোলার। আমরা বিশ্বব্যাপী মাইক্রোকন্ট্রোলার শিল্পের বিভিন্ন প্রভাব যেমন বিশ্বে স্মার্ট গ্রিড প্রকল্পগুলির বৃদ্ধি, শিল্পের অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব, স্মার্ট কার্ডগুলিতে মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহার এবং অন্যান্য কারণগুলির দিকে নজর দেওয়া যেমন বিশ্লেষণ করি।

1.7 একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার চয়ন করার মানদণ্ডটি ব্যাখ্যা করুন(Explain the criteria for choosing a microcontroller)

কোন নির্দিষ্ট সিস্টেম ডিজাইনের জন্য সঠিক মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচন খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় কেননা সিস্টেমের পারফরমেন্স ব্যবহৃত মাইক্রোকন্ট্রোলারের উপর নির্ভরশীল। সঠিক মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচন না হলে সিস্টেমের পারফরমেন্স খারাপ হতে পারে। আবার প্রতিটি সিস্টেম একটি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যকে লক্ষ্য করে উন্নয়ন করা হয়। তাই অজ্ঞতাবশতঃ অধিক দামী মাইক্রোকন্ট্রোলার ব্যবহার করলে সিস্টেম ডিজাইনের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে ফলে ব্যবসায়িক সাফল্য ব্যহত হবে, আবার খুব সস্তা চীপ ব্যবহার করলে অনেক হার্ডওয়্যার সুবিধা হতে বঞ্চিত হতে হবে। এক্ষেত্রে কাজের চাহিদা ও দামের দিকে লক্ষ্য রেখে সবচে কম খরচে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সুবিধা সম্বলিত, সহজে প্রোগ্রামযোগ্য একটি মাইক্রোকন্ট্রোল চীপ নির্বাচন করা জরুরী যা সিস্টেমের প্রয়োজনীয় কার্য সম্পাদনে সমর্থ।
১। হার্ডওয়্যারের যোগ্যতাঃ মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচনে যে সকল হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন বিবেচনা করা প্রয়োজন তার সাধারণ দিক নির্দেশনা নিম্নে উল্লেখিত হলোঃ
প্রসেসরের ওয়ার্ড সাইজঃ একটি মাইক্রোকন্ট্রোলারের ALU একটি সিঙ্গেল ইন্সট্রাকশনে যত বিট ডাটার উপর গাণিতিক ও যৌক্তিক কার্য সম্পাদন করতে পারে তাকে উক্ত মাইক্রোকন্ট্রোলারের ওয়ার্ড সাইজ বলা হয়। ওয়ার্ড সাইজ বেশী হলে প্রসেসিং স্পীড বেশী হবে। ব্যবহারিকভাবে বাজারে 4 বিট, 8 বিট, 16 বিট, 32 বিট ওয়ার্ড সাইজের মাইক্রোকন্ট্রোলার পাওয়া যায়। ডিজাইনকৃত সিস্টেমের চাহিদানুযায়ী উপযুক্ত ওয়ার্ড সাইজের মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচন করা উচিত।
কাজের গতিঃ একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার সর্বোচ্চ যে ক্লক ফ্রেকুয়েন্সী সাপোর্ট করে তা দ্বারা এর কাজের গতি নির্ধারন হয়। সিস্টেমের চাহিদানুযায়ী উপযুক্ত ক্লক ফ্রেকুয়েন্সীর মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচন করা উচিত।
অভ্যন্তরীণ মেমোরির পরিমানঃ RAM এবং ROM এর পরিমান বিবেচনা করতে হবে। ROM এর পরিমান বেশী হলে বড় প্রোগ্রাম সংরক্ষণ করা সম্ভব আবার RAM এর পরিমান বেশী হলে মাইক্রোকন্ট্রোলারের প্রসেসিং স্পীড বৃদ্ধি পায়। সিস্টেমের চাহিদানুযায়ী সঠিক পরিমান ROM ও RAM বিশিষ্ট মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচন করা উচিত।
I/O পিনসমূহ ও টাইমারের সংখ্যাঃ মাইক্রোকন্ট্রোলারসমূহে I/O পিনসমূহ ও টাইমারের সংখ্যার ভিন্নতা রয়েছে। Input, Output পিনের সংখ্যা বেশী হলে একসাথে অধিক ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং টাইমারের সংখ্যা বেশী হলে প্রোগ্রামিং সুবিধা বেশী পাওয়া সম্ভব। ডিজাইনকৃত সিস্টেমের চাহিদানুযায়ী সঠিক মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচন করা উচিত।
প্যাকেজের ধরণঃ বাজারে DIP (Dual in Line Package) এবং QFP (Quad Flat Package) উভয় ধরণের মাইক্রোকন্ট্রোলার পাওয়া যায়। তৈরীকৃত প্রজেক্টের স্পেস বা স্থান, এসেম্বলি এবং প্রোটোটাইপের উপর ভিত্তি করে সঠিক প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।
পাওয়ার খরচঃ যে সকল স্থানে সরবরাহকৃত বিদ্যূৎ নেই এবং ব্যাটারীতে সঞ্চিত শক্তি হতে সিস্টেম চালানোর প্রয়োজন হয় সেসব অঞ্চলে মাইক্রোকন্ট্রোলার ভিত্তিক সিস্টেম চালানোর প্রয়োজন হলে এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। যে মাইক্রোকন্ট্রোলারের পাওয়ার খরচ সবচে কম তা অগ্রগণ্য।
২। ব্যবহারের সহজসাধ্যতাঃ মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচনের পূর্বে তার ব্যবহারিক সহজসাধ্যতা যাচাই করতে হবে। আর এ বিষয়টি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের উপর নির্ভর করেঃ
বাজারে সহজলভ্যতাঃ যে চীপটি বাজারে বর্তমানে সহজলভ্য এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘকাল সহজলভ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার অনেক সরবরাহকারী বা ভেন্ডর রয়েছে সেটি নির্বাচন করতে হবে, দুস্প্রাপ্য চীপ দিয়ে সিস্টেম ডিজাইন করা উচিত নয়, কেননা এতে ডিজাইন পরবর্তী কার্যক্রম যেমনঃ তৈরীকৃত ও ব্যবহৃত ত্রুটিপূর্ণ সিস্টেমসমূহ রিপেয়ারিং করতে না পারলে সেগুলি বাতিল করার প্রয়োজন হবে যা অর্থনৈতিক ক্ষতির কারন।
প্রোগ্রামিং সহজসাধ্যতাঃ আমরা জানি মাইক্রোকন্ট্রোলার একটি প্রোগ্রামেবল চীপ। ব্যবহার পূর্ববর্তী সময়ে একে প্রোগ্রাম করতে হয়। মাইক্রোকন্ট্রোলারকে এসেম্বলী ও হাইলেভেল উভয় ভাষায় প্রোগ্রাম করা যায়। এই সকল প্রোগ্রাম রচনা, ডিবাগ ও লোড করার জন্য বিভিন্ন এসম্বলার, কম্পাইলার ও বার্নার সফটওয়্যার রয়েছে। মাইক্রোকন্ট্রোলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে সকল চীপ নির্বাচন করা উচিৎ যাদের প্রচুর এসম্বলার, কম্পাইলার, বার্নার সফটওয়্যার ও টেকনিক্যাল সাপোর্টের জন্য অনলাইন কম্যূনিটি রয়েছে যার ফলে প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে অধিক সুবিধা পাওয়া যায়।
৩। দামের তফাত বিবেচনাঃ Atmel, Motorola, Intel, Microchip এছাড়া আরো অনেক বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানীগুলি মাইক্রোকন্ট্রোলার চীপ তৈরী করে। বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় বিভিন্ন কোম্পানী কর্তৃক উৎপাদিত প্রায় একই হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশনবিশিষ্ট চীপসমূহের মধ্যে দামে পার্থক্য হয়। সেক্ষেত্রে সস্তা চীপটি অগ্রগণ্যতা পাবে।



No comments

Theme images by Dizzo. Powered by Blogger.